শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ইরাক পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলা চালানো উচিত হয়নি। দীর্ঘ ইরাক যুদ্ধের পরিণামেই মধ্যপ্রাচ্যের নানা বিশৃঙ্খলা এখনও মানুষকে ভোগাচ্ছে- এমন উপলব্ধি থেকেই দুই নেতার মনে ওইরকম ধারণা জন্মেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে আরো বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্তা সিআই’এর সাবেক কর্মকর্তা জন নিক্সন তার লেখা নতুন বই-এ উল্লেখ করেছেন, ইরাক শাসনের জন্য দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে বাঁচিয়ে রাখাই উচিত ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট এবং সিআইএর সাবেক কর্মকর্তার মন্তব্য এবং উপলব্ধি থেকে প্রশ্ন জাগে, তাহলে তোমরা কোন কা-জ্ঞানে ইরাকে হামলা করতে গেলে, আর কেনই বা দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে মারতে গেল? ইরাকে হামলার পরে তো জানা গেছে যে, মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ইরাকে আক্রমণ করা হয়েছিল। এ কারণে জর্জ বুশ ও টনি ব্লেয়ার থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের শাসকগোষ্ঠীর অনেকেই ক্ষমা পর্যন্ত চেয়েছেন। এত ভঙ্গুর চিনা-চেতনা, কাঁচা তথ্য এবং জাতিসংঘের অনুমোদন না নিয়েই একটি দেশের ওপর তারা কোন বিবেচনায় হামলা করলো? এখন কেউ যদি অভিযোগ করে যে, বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িক চেতনার কারণেই তথাকথিত বিশ্ব নেতারা অন্যায়ভাবে একটি মুসলিম দেশের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তাহলে তা অস্বীকার করার মত কোনো যুক্তি কি তাদের কাছে আছে? নতুন শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বের ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করলে মনে হয়- কিছু উদভ্রান্ত, বিদ্বিষ্ট ও বেপরোয়া মানুষ আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীকে শাসন করার মসনদে বসে আছে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ্য যে, সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা জন নিক্সন তার নতুন বই এ উল্লেখ করেছেন, “জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম বলেছিলেন, তোমরা ব্যর্থ হতে চলেছ। বুঝতে পারবে ইরাক শাসন করা এত সহজ নয়। কারণ তোমরা তাদের ভাষা ও ইতিহাস জানো না। আর তোমরা আরব মনন ও মানস বোঝ না।” জন নিক্সন আরো উল্লেখ করেছেন, ‘সাদ্দামকে আমার মোটেও ভাল লাগেনি। তবে তার প্রতি এক পর্যায়ে আমার এক ধরনের তিক্ত সম্মানবোধও জন্ম নেয়। কারণ তিনি ইরাকী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পেরেছিলেন। সাদ্দাম আমাকে একবার বলেন, আমার আগে ইরাকে কেবলই বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া চলতো। আমি এসবের অবসান ঘটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং সিআই-এর সাবেক কর্মকর্তাদের এমন সব বক্তব্যের পর ইতিহাস হয়তো তাদের আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। হয়তো বলবে, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসরমান একটি জাতির ওপর তোমরা কেন মিথ্যা তথ্যের ওপর ভর করে বদ মতলবে হামলা চালাতে গেলে? তোমাদের ব্যর্থ নেতৃত্বতো দেশটিকে প্রস্তর যুগে নিয়ে গেছে। হয়তো বলবে, এত ধ্বংস, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা তোমরা ঘটাতে গেলে কেন? ইতিহাস তো তোমাদের ক্ষমা করনে না। হয়তো বলবে, তোমাদের চাইতে সাদ্দাম হোসেন অনেক বড় নেতা ছিল। আর এখন তোমরাই বলছো, সাদ্দাম থাকলে ভাল হতো। তাই এখন আমাদেরও পশ্ন, সাদ্দামকে সরানোর মন্দ কাজটি তোমরা করতে গেলে কেন? এর কোন জবাব কি আছে তাদের কাছে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ